আজ ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সময় : সকাল ১১:১১

বার : শুক্রবার

ঋতু : হেমন্তকাল

‘বিএনপির শব্দবোমার হুমকিতে সরকার পতন সম্ভব নয়’

‘বিএনপির শব্দবোমার হুমকিতে সরকার পতন সম্ভব নয়’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ পালাবার দল নয়, বিএনপির শব্দবোমার হুমকিতে শুধু বিশৃঙখলা সৃষ্টি ছাড়া সরকার পতন সম্ভব নয়।’

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজারের একটি হোটেলে জেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

দলীয় প্রার্থীদের বিরোধিতাকারীদের সতর্ক করে এ সময় নানক বলেন, ‘আগামী ১৭ অক্টোবর সারা দেশে জেলা পরিষদের নির্বাচন। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলেও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী রয়েছেন। তাই দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি আমার কথা নয়, এটি জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা।’

এর আগে দুপুরে কক্সবাজার শহীদ দৌলত ময়দানে জেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদবিরোধী ছাত্র সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নানক।

ওই সমাবেশে নানক বলেন, ‘বাংলাদেশে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে আওয়ামী লীগ। গণতান্ত্রিক পন্থায় দেশ পরিচালনা কীভাবে করতে হয় তা শেখ হাসিনা দেখিয়ে দিয়েছেন। এ দেশে বিএনপির রাজনীতি মানে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের উত্থান। বিএনপি চেয়েছিল ‘৭১-এর বিজয়ী কেউ এদেশ পরিচালনায় না আসুক। কিন্তু জনগণের ভোটে ’৭১-এর বিজয়ী শক্তি ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনাকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আর জঙ্গিদের নির্মূল করে শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন, এ দেশে জঙ্গিবাদে মদত দেওয়া কোনও গোষ্ঠীর স্থান নেই।’

দেশে আজ উন্নয়নের জোয়ার বইছে জানিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘শুধু কক্সবাজারকে নিয়ে ভাবুন। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মাতরবাড়িতে উন্নয়ন, দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ, আঞ্চলিক বিকেএসপিসহ প্রায় অর্ধ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চলছে।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে নানক বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব পাকিস্তানপ্রীতি ভুলতে পারেন না। কারণ, পাকিস্তানপ্রিয় একটি দল থেকে তার সৃষ্টি। তিনি পাকিস্তানপ্রিয় একটি দল খুঁজে পেয়েছিলেন। সেই দলটির নাম হলো বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি)। এই বিএনপির স্রষ্টা ও পাকিস্তানের পাহারাদার ছিলেন খুনি জিয়াউর রহমান। তিনিও নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন এখন।’

বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে যে সমাবেশ করেছে বিএনপি, এমন সমাবেশ ছাত্রলীগ করতে পারে। সেখানে আরও বেশি মানুষের জমায়েত হবে। আর কাউকে লাগবে না। ছাত্রলীগের সমাবেশে কত মানুষ জমায়েত হয় দেখার আহ্বান জানায় বিএনপি’কে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার দিন-তারিখ দিয়ে লাভ নেই। কারণ আমরা আপনাদের চিনি। ১০ ডিসেম্বর ক্ষমতায় আসার ঘোষণা কেন দিয়েছেন তাও জানি। কারণ সেটি বিজয়ের মাস। আপনারা তো এ দেশের মানুষের বিজয় দেখতে চান না।’

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম-বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুন, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মোস্তাক আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম ও উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category