আজ ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সময় : দুপুর ১২:১০

বার : শুক্রবার

ঋতু : হেমন্তকাল

এনক্রিপ্টেড অ্যাপে চলছে মাদক ও জঙ্গি কার্যক্রম

এনক্রিপ্টেড অ্যাপে চলছে মাদক ও জঙ্গি কার্যক্রম

তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত বিষয়গুলোর গোপনীয়তা। এই গোপনীয়তাকে পুঁজি করে অসাধু গোষ্ঠী বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছে এনক্রিপ্টেড অ্যাপ। জঙ্গি সংগঠনগুলো সদস্য সংগ্রহ, প্রচারণা এমনকি প্রশিক্ষণও দিচ্ছে এসব এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ীরাও এসব অ্যাপ ব্যবহার করে চালিয়ে যাচ্ছেন চোরাচালানসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে এনক্রিপটেড অ্যাপ নির্মাতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কোনও তথ্য দেয় না। তবুও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে অনেক সময় অনেককে গ্রেফতার করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ইন্টারপা সম্মেলনে আলোচনায় এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আলোচনা হয়। ইন্টারপার মাধ্যমে কিভাবে এসব বিষয়ে তথ্য পাওয়া সম্ভব সে বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার গোলাম ফারুক  বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দেশের সদস্যদের আরও কিভাবে প্রশিক্ষিত করা যায় সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের পুলিশ স্টাফ কলেজের প্রধানদের সমন্বয়ে তথ্যপ্রযুক্তির নানা খুঁটিনাটি বিষয় আরও কী কী সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা যায় সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এছাড়া যেহেতু ইন্টারপা বিভিন্ন দেশের পুলিশ স্কুলের সমন্বয়ে একটি সংগঠন সে কারণে অন্যান্য দেশের পুলিশিং এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের দক্ষতা সম্পর্কেও আমাদের পুলিশ সদস্যরা জ্ঞান অর্জন করতে পারছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির এই পর্যায়ে এসে হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্তের বিষয়টি অনেকটাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত এনক্রিপ্টেড অ্যাপ খতিয়ে দেখে তাদের অপরাধের ধরণ এবং কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হতে পারছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরবর্তীতে এসব অপরাধীদের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত সেসব বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

জঙ্গি দমনে কাজ করা পুলিশের বিশেষ বাহিনী এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) বলছে, চলতি বছর ২৫টির বেশি অভিযান পরিচালনা করে ৩২ জঙ্গি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত জঙ্গিদের মধ্যে জেএমবি এবং আনসার আল ইসলামের সদস্য সংখ্যা বেশি। গ্রেফতারকৃতদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিভিন্ন এনক্রিপটেড অ্যাপের মাধ্যমে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতো। অনলাইনে তরুণদের রেডিক্যালাইজড করে তরুণদের দলে টানতো।

সম্প্রতি লক্ষ্য করা গেছে, জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম ছাড়াও মাদক ব্যবসায়ীরাও নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখতে ব্যবহার করছে এনক্রিপ্টেড অ্যাপ। যে কারণে অপরাধীদের ধরতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

সম্প্রতি কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া সাত তরুণ নিখোঁজের ঘটনায় এখনও কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারাও এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগ করতো, পরবর্তীতে কথিত হিজরতের উদ্দেশে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়।

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান  বলেন, নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে এনক্রিপ্টেড অ্যাপস। এসব অ্যাপসের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তি সুরক্ষার জন্য তথ্য দিতে চায় না। তারপরও আমরা তথ্য প্রযুক্তির নানা বিষয় পর্যালোচনা করে অপরাধী শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনছি।

এটিইউ-এর মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস শাখার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান  বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এনক্রিপটেড অ্যাপসে মাধ্যমে অপরাধ করা ব্যক্তিদের আমরা গ্রেফতার করছি। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category