আজ ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সময় : দুপুর ১:০০

বার : শুক্রবার

ঋতু : হেমন্তকাল

বিএনপির রাজনীতি বিভিন্ন দূতাবাসে রঙিন পানি খাওয়া: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপির রাজনীতি বিভিন্ন দূতাবাসে রঙিন পানি খাওয়া: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি এখন মাঠে না, তাদের রাজনীতি এখন রাতের বেলা বিভিন্ন দূতাবাসে যাওয়া, আর লাল-নীল রঙিন পানি খাওয়া। বিভিন্ন দূতাবাসে এরা ঘুরে বেড়ায়, পার্টি করে, ঘরের মধ্যে পার্টি করে।

রবিবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই শেখ হাসিনার কারাবাস দিবসকে স্মরণে স্বপ্ন ফাউন্ডেশন এই সভার আয়োজন করে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আপনাদের (বিএনপি) কাছে অনুরোধ— আপনারা জনগণের জন্য রাজনীতি করেন, জনগণের কাছে যান। রাত-বিরাতে এদিক সেদিক গিয়ে কোনও লাভ হবে না। ১৪/১৮ সালে এগুলো করে কোনও লাভ হয়নি, এবারও কোনও লাভ হবে না। দল ঐক্যবদ্ধ থাকলে এবারও ইনশাআল্লাহ ধস নামানো বিজয় হবে।’

তিনি বলেন, ‘ওরা (বিএনপি) এখন আল্লাহর কাছে দোয়া করছে বাংলাদেশটা কেন শ্রীলঙ্কা হচ্ছে না। তারা দেশের কোনও মঙ্গল চায় না। বিদেশিরা আমাদের ব্যাপারে নাক গলাতে চায় না, কিন্তু বিএনপি তাদের নাকটা নিয়ে ওদের কাছে যায়, নাক কাটানোর জন্য। তাদের নাক কাটিয়ে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করার জন্য।’

বাংলাদেশের অর্থনীতি মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অনেক দেশে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। অনেক দেশের অর্থনীতি এখন ঋণখেলাপির পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। কানাডাভিত্তিক একটি সংবাদ মাধ্যম ব্লুমবার্গ বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন ভার্নারেবল কান্ট্রিগুলোর  একটি  তালিকা প্রকাশ করেছে— যেখানে আর্জেন্টিনা, তুরস্ক, মরক্কো, মিসর, পাকিস্তান অনেক দেশের নাম আছে। সেখানে কিন্তু বাংলাদেশের নাম নেই।’

তিনি বলেন, ‘আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন পৃথিবীর ৪১তম। ২০০৬ সালে বিএনপির আমলে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার। ২০০৯ সালে রিজার্ভ ছিল ৫-৬ বিলিয়ন ডলার। সেই রিজার্ভকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে। এখনও ৪০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ, যা দিয়ে ৬ মাস আমদানি করা সম্ভব।’

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই শেখ হাসিনার কারাবাস দিবসকে স্মরণ করে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কারাগারে বসে শেখ হাসিনা পরিকল্পনা করেছিলেন—দেশকে কীভাবে পরিচালনা করবেন। তাই আজ আমরা পৃথিবীর বুকে মধ্যম আয়ের দেশ। কেউ ছেঁড়া কাপড় পরে, খালি পায়ে কোনও মানুষকে দেখা যায় না। কবিতায় কুঁড়েঘর দেখা গেলেও তা বাস্তবে খুব কম দেখা যায়।  এই পরিবর্তন কোনও জাদুর কারণে হয়নি।’

দুর্নীতি দুঃশাসনকে সমর্থন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি অন্যায়-অনাচারকে দূর করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হলেও তারা সেটি না করে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে। তার কারণ তারা নিজেরাই নানান অনাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সেনা সমর্থিত সরকার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ইকবাল মাহমুদ টুকুর অন্যায়ে তার মেয়েকে গ্রেফতার করা হলে শেখ হাসিনা তার প্রতিবাদ করেছিল, বিএনপি করেনি।  অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলে প্রতিবাদ করার কারণেই গ্রেফতার করা হয়েছিল শেখ হাসিনাকে। এর অনেক পরে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা আমার কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন একসঙ্গে আন্দোলন করার। আমি বলেছিলাম, আগে আপনাদের নেত্রী গ্রেফতার হোক, তারপর দেখা যাবে। তাদের ম্যাডামকে গ্রেফতার করা হলে তারা কোনও আন্দোলন করতে পারে নাই। আমাদের আন্দোলনে খালেদা জিয়া মুক্তিলাভ করেছিলেন।’

স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. রিয়াজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন—আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category