আজ ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সময় : বিকাল ৫:১০

বার : বৃহস্পতিবার

ঋতু : শরৎকাল

বাজেটে প্রয়োজনীয়তার চেয়ে রাজনীতি বেশি গুরুত্ব পায়: পরিকল্পনামন্ত্রী

বাজেটে প্রয়োজনীয়তার চেয়ে রাজনীতি বেশি গুরুত্ব পায়: পরিকল্পনামন্ত্রী

বাজেট বরাদ্দে প্রয়োজনীয়তার চেয়ে রাজনীতি গুরুত্ব পায় বেশি। এই বরাদ্দ দিতে গিয়ে সরকার এক ধরনের ‘ঠেকা’র মধ্যে পড়ে। কায়েমি স্বার্থ বরাদ্দ বিভাজনকে প্রভাবিত করে। বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা গণতান্ত্রিক সমাজে থাকা উচিত নয়। হঠাৎ করে এই বেড়াজাল ভাঙা সহজ নয়। তবে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা চেষ্টা করছেন। আশা করা যায় তিনি সফল হবেন।

শনিবার (২ এপ্রিল) ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) ও ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এসব কথা বলেন।

আইসিএবি সভাপতি শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সিএ ভবনে ‘সামষ্টিক অর্থনীতি: ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ গোলটেবিল আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইআরএফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

ইএরএফ জানিয়েছে, পুরো আলোচনায় বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও হিসাববিদরা রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, কর্পোরেট কর কমিয়ে আনা, করোনা প্রভাব মোকাবিলা এবং রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে সৃষ্টি হওয়া নতুন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে করণীয়, এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি, এসএমই খাতের বিকাশ, সরকারি ব্যয়ের সুষ্ঠু ব্যবহার, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এসব আলোচনার প্রেক্ষিতে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার খুবই জরুরি। অনুৎপাদনশীল খাতে  সরকারি বরাদ্দ দেওয়া অন্যায়।  তিনি বলেন, অনেক সমস্যার মধ্যেও বর্তমান সরকার গত ১০ বছরে লক্ষ্যমান, দৃশ্যমান ও প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন করেছে। দেশে ব্যবসায়, পরিবেশে সমস্যা আছে। তবে বড় সমস্যা হচ্ছে একটি শ্রেণি বলছে তারা নির্বাচনে যাবে না। নির্বাচনের পরিবেশ নেই। তারা খেলা ভণ্ডুল করার প্রয়াস থেকে এসব বলছে। এ ধরনের মতামতের বিষয়ে দেশের ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজকে মতামত জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন আইসিএবি সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন। তিনি বলেন, দেশ এগোচ্ছে। তবে বৈষম্যও বাড়ছে। এর কারণ হচ্ছে পরোক্ষ কর। তিনি প্রত্যক্ষ কর ও অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিবর্তে বৈদেশিক ঋণ সহায়তা ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন,বাজেটে থেকে যে বিনিয়োগ হয় সেখানে সংস্কার দরকার। শিক্ষা খাতের জন্য পূর্ণাঙ্গ বাজেট দিতে হবে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সুচিন্তিত পদক্ষেপ দরকার। আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এখন রিজার্ভ খরচের বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।

এমসিসিআই সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে গত দুই বছর পরিকল্পনা অনুযায়ী অনেক কাজ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা পুনরায় মূল্যায়ন করা দরকার।

চট্টগ্রাম  স্টক  এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ শতাংশের বেশি ধরা ঠিক হবে না।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, খাদ্য উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় সে উদ্যোগ দরকার। পাশাপাশি পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম এমনভাবে সমন্বয় করতে হবে যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সমস্যায় না পড়েন।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, অগ্রিম আয়কর নেওয়া বন্ধ করতে হবে। উৎসে কর নেওয়া বন্ধ করতে হবে। কর সবাই দিতে চায়, কিন্তু করের ঝামেলা কেউ নিতে চায় না। এজন্য কর কর্তৃপক্ষের সংস্কার দরকার।

ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সার ই-কমার্স খাতে কর কমানো ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রস্তাব করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইসিএবির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির। এছাড়াও ইআরএফ সভাপতি শারমীন রিনভী ও সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category