আজ ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সময় : বিকাল ৪:৩৭

বার : বৃহস্পতিবার

ঋতু : শরৎকাল

‘এখন খন্দকার মোশতাক তৈরি হতে বেশি সময় লাগে না’

‘এখন খন্দকার মোশতাক তৈরি হতে বেশি সময় লাগে না’

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেছেন, লজ্জাজনক হলেও সত্যি বিদেশিদের ষড়যন্ত্রে আমরাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছি। এখন যতই মায়াকান্না করি, গান গাই না কেন সত্যিটা হচ্ছে আমরাই খুনি। আগে খন্দকার মোশতাকরা ধীরে ধীরে তৈরি হতো। সংখ্যায় থাকতো কম। এখন খন্দকার মোশতাক তৈরি হতে বেশি সময় লাগে না। এখন প্রতি জেলায় এমনকি থানা পর্যায়ে খন্দকার মোশতাক তৈরি হয়ে আছে। এখন খন্দকার মোশতাক তৈরি হতে বেশি সময় লাগে না
গতকাল বিকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে শহরের নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি না থাকলে কারও কিছু যায় আসে না।

আমি আল্লাহকে শপথ করে বলতে চাই আমি ভয় পাচ্ছি। বাংলাদেশে স্বপ্ন দেখার মতো আর কেউ নেই। তাই টার্গেটও তিনি (প্রধানমন্ত্রী) একা। আমার বাবা ও মনসুর আলী চাচা এক রুমে ছিলেন। তাকে অজু করতে দেয়নি। পাশের রুমে নিয়ে তাদের অফার করা হয়েছিল। তারা বলেছিল আমরা মরে প্রমাণ করতে চাই আমরা শেখ মুজিবের লোক। পরে তাদের হত্যা করা হয়। আমি এখন আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি না। আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। শেখ হাসিনা এখন শুধু আওয়ামী লীগের নয় তিনি এখন সকলের। তিনি বলেন, মাত্র ৩১ বছর বয়সে শেখ হাসিনা দেশে এসেছিলেন। তাকে তার ৩২ নম্বরের বাড়িতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। আজকে অনেকে মানবাধিকারের কথা বলে। সেদিন আবারো আসতে পারে। ষড়যন্ত্র এখনো হচ্ছে, আমি জাতির পিতার দুই কন্যার জন্য দোয়া চাচ্ছি এবং নিজের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। শামীম ওসমান বলেন, সামনে আমাদের কঠিন পথ অতিক্রম করতে হবে। দেশের ভেতরে গভীর ষড়যন্ত্র হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ২০০১ সালে আমাদের ওপর বোমা হামলা হলো। তখন আমার কথা অনেকে বিশ্বাস করেনি। ২০০৪ সালে ঠিকই শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা হলো। সেদিন যদি গ্রেনেডটা ট্রাকে ফুটতো তাহলে আজ কি কেউ বেঁচে থাকতো? থাকতো না। তিনি আরও বলেন, আমরা রাজনীতি ছেড়ে চলে আসতে চেয়েছিলাম। বলেছিলাম আমাদের স্বপ্নপূরণ হয়েছে, আমার বাবার স্বপ্নপূরণ হয়েছে। তিনি (শেখ হাসিনা) বললেন, আমার বাবার স্বপ্নপূরণ হয়নি। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন এ দেশ সোনার বাংলাদেশ হবে, আমরা ক্ষুধামুক্ত হতে পারবো। শামীম ওসমান বলেন, আমাদের দুটো পয়েন্টে সকলকে এক হতে হবে। এক পররাষ্ট্রনীতি আরেকটা অর্থনীতি। কিন্তু আমি দেখি কিছু সুশীল যারা দেশ বেঁচে খায়। এই পুলিশ ও র?্যাবের ওপরে যখন কোনো রাষ্ট্র একটা কিছু করেছে। আমরা সেটা ডিপ্লোমেটিকভাবে মোকাবিলা করবো। কিন্তু যখন আমাদের অপমানিত করা হলো তখন অবাক হয়ে দেখি আমাদের দেশের কিছু লোক হাততালি দেয়। এরা কারা। তারা নারায়ণগঞ্জেও এসে মিটিং করে। এ ব্যাপারটা আমাদের দেখা উচিত। এ সময় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম, র‌্যাব-১১ এর উপ-অধিনায়ক এ কে এম মনিরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি আসিফ হাসান মাহমুদ, জেলা বারের সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category